
দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পথে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আধুনিক এই টার্মিনাল শুধু চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। লালদিয়া টার্মিনালে ডেনমার্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর এপিএম টার্মিনালস ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে, যা বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়টি কেবল ঘোষণার নয়, বরং ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি বাস্তব রূপ নেবে। চট্টগ্রামে এ ধরনের আরও প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে শহরটি সত্যিকার অর্থেই দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে দেশের প্রবৃদ্ধিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
তিনি বলেন, লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল চালু হলে এর সুবিধা শুধু বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা পাবেন না; আশপাশের দেশের আঞ্চলিক বন্দরগুলোও প্রয়োজনে এখানে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্য থেকে আরও বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারবে।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে সংশয় থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগের বর্তমান গতি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়লে বাংলাদেশ এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং লালদিয়া এপিএম টার্মিনাল প্রকল্প দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড বলেন, টার্মিনালটিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এখানে সাতটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর থাকবে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও অর্থনীতির অন্যতম প্রবেশদ্বার। বর্তমানে দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি এবং ৯৮ শতাংশের বেশি কন্টেইনার এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক দশকে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে এবং আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক মানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।